শীতে ত্বকের যত্ন নিতে কী কী করবেন এবং শীতে ত্বকের যত্নে কী কী করা উচিত।

শীতকালে ত্বকের যত্ন নেওয়াটা খুবই জরুরী

কারণ শীতকালে আমাদের ত্বক খুব রুক্ষ সূক্ষ্ম হয়ে যায়। মানুষ ত্বকের রক্ষায় অনেক রকম রাসায়নিক ক্রীম ব্যবহার করে।

যেগুলো সবসময় মানুষের উপকারে আসে না। এই রাসায়নিক পদার্থ গুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মানুষের অনেক ভাবে ক্ষতি করে।

এই ক্ষতি গুলো কোনোদিন পূরণ করা যায় না। অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো মানুষের ত্বক কালো-ও করে দেয়।

তাই আমাদের উচিৎ সবসময় প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করা। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে শীতকালে ত্বকের পরিচর্যা করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করবো।

প্রথমেই আসি তৈলাক্ত ত্বক এর বিষয়ে

শীতকালে অনেকের তৈলাক্ত ত্বক দেখা যায়। মানুষ তৈলাক্ত ত্বক সবথেকে বেশি অপছন্দ করে।

তৈলাক্ত ত্বক দূর করার জন্য অনেকে রাসায়নিক ফেসওয়াশ ব্যবহার করে। এই ধরনের ফেসওয়াশ গুলো কিছু সময়ের জন্য ত্বক থেকে তৈলাক্ত ভাব দূর করলেও পরে আবার

আগের মতোই হয়ে যায়। আবার বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি গুলো নকল প্রোডাক্ট বানিয়ে বাজারজাত করে যেগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

তাই তৈলাক্ত ত্বক দূর করার জন্য টমেটোর রস ব্যবহার করা যায়। টমেটোর রস ব্যবহারে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হবে।

তাছাড়া লেটুস পাতার রসের সাথে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব অনেকটা কমে আসে।

বিভিন্ন ধরনের প্যাক যেমন টমেটো, আলু ইত্যাদির প্যাক সপ্তাহে একদিন করে ব্যবহার করার মাধ্যমে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করা যায়।

এরপর আসি শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিয়ে

শীতকালে শুষ্ক খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রায় সবারি শুষ্ক ত্বক দেখা যায় শীতের

সময়। শুষ্ক ত্বকের জন্য ত্বকের অনেক ক্ষতি হয় শুষ্কতার জন্য ত্বকের ভিতর ফাটল দেখা যায়

যার কারণে ত্বক দেখতে খুব বাজে দেখায়। আবার শুষ্কতার কারণে ত্বক চুলকায়, জ্বালাপোড়া করে।

ত্বকের শুষ্কতা দূর করার জন্য দুধ অথবা ঠান্ডা দই ব্যবহার করা যায়। যখন খুব

জ্বালাপোড়া করে তখন ঠান্ডা দই শুষ্ক জায়গায় লাগিয়ে নিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমবে।

ব্যবহার করুন এলোভেরা


এলোভেরা জেল হলো প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া একটি স্কিন কেয়ার জেল।

এলোভেরা জেল আমাদের ত্বকের যত্নে সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে।

এলোভেরা জেল সব রকমের ত্বকের সমস্যার সমাধান দেয়। এতে বিদ্যমান

এন্টিওক্সিডেন্ট ত্বককে হাইড্রেট করে। ত্বকের যেকোনো দাগ দূর করার ক্ষেত্রে এলোভেরা জেল কাজ করে।

এলোভেরা জেল যেকোনো ভাবে ত্বকে ব্যবহার করা সম্ভব। এলোভেরা জেল ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে যাহায্য করে।

এই এলোভেরা গাছ বাড়িতে লাগানো যায়। আবার যাদের পক্ষে বাড়িতে লাগানো সম্ভব না, তারা বাজার থেকে এলোভেরা জেল কিবে নিয়ে আসতে পারেন।

এলোভেরা জেল ব্যবহার করে ত্বককে ফেটে যাওয়া থেকে বাচাঁনো যায়। এলোভেরা জেল

ব্যবহারের জন্য এলোভেরার একটি পাতা নিয়ে এর মাঝ থেকে কেটে ভিতরের জেল গুলো নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এছাড়াও যারা বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসা প্যাকেট এলোভেরা জেল ব্যবহার করেন তারাও একই পদ্ধতিতে ব্যবহার করুন।

চেহারার ও শরীরের ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন নারিকেল তেল

নারিকেল তেল ব্যবহার করে ত্বক মইশ্চার করা যায়। নারিকেল তেল মুখ ও শরীরের পাশাপাশি হাটু ও পায়ের গোড়ালির ত্বকেরও যত্ন নেয়।

নারিকেল তেল ব্যবহারের জন্য ত্বক পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে যতক্ষণ না ত্বক কুঁচকে যায়। ত্বক যখন কুচকে যাবে তখন বুঝবেন ত্বক সঠিক আর্দ্রতা পেয়েছে।

তখন নারিকেল নিয়ে ত্বকে মাখুন যে জায়গা গুলো ফেটে গেছে সেই জায়গা গুলোতে হালকা ভাবে মালিশ করুন।

এর ফলে ফেটে যাওয়া জায়গা গুলো মইশ্চার হবে। এছাড়াও শীতকালে নারিকেল তেলের ব্যবহার ভালো ফল দেয়।

শীতকালেও একই রকম ভাবে ত্বক আর্দ্র করে নিয়ে তারপর জমে যাওয়া নারিকেল তেল পুরো শরীরে মেখে নিয়ে তারপর পাজামা অথবা প্যান্ট পরে নিতে হবে।

ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন ওট মিল

ওট মিলে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট। এন্টিওক্সিডেন্ট ত্বককে হাইড্রেট করতে সাহায্য করে। ওট মিল আমাদের ত্বক মইশ্চার করে।

ত্বককে করে প্রাণবন্ত। ওট মিল ব্যবহারের জন্য ওট মিল গুলোকে পাওডার বানিয়ে নিতে হবে।

এই পাওডার গুলো গোসলের সময় বাথটাবে পানি নিয়ে সেই পানিতে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এমন ভাবে পাউডার গুলো মেশাতে হবে যেন কোথাও দলা হয়ে না থাকে।

তারপর ২০ মিনিট পানিতে শুয়ে থাকুন ওট মিল ত্বক পরিষ্কার করে। ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়।

এবং ওট মিলে থাকা এন্টিওক্সিডেন্ট গুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে এবং বজায় রাখতে সাহায্য করে।

দ্রুত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়