ইলন মাস্ক এর জীবনী

ইলন মাস্ক এর জীবনী

কখনোই হার মানা উচিত না, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনাকে অন্যকেউ পরাজয় স্বীকার করার জন্য জোর করছে কোনও কিছু সম্ভব করতে হলে অবশ্যই প্রথম

পদক্ষেপ টি নেওয়া প্রয়োজন, কেননা সম্ভবনা আসে পরে -এই মহামূল্যবান উক্তিগুলোকে করেছেন ইলন মাস্ক । ইলন মাস্ক বর্তমানে তরুণদের অনুপ্রেরণা।

ইলন মাস্ক তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সাফল্যের গৌরব অর্জন করেছেন। তাকে বলা হয় ইঞ্জিনিয়ারদের জনক।

ইলন মাস্কের সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইলন মাস্কের সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইলন মাস্ক জন্মগ্রহণ করেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় ১৯৭১ সালের ২৮ জুন। ছোটবেলা থেকে তার বই পড়ার প্রতি আগ্রহী ছিল ।

কম্পিঊটারের প্রতি তার বিশেষ আকররষণ থাকার ফলে মাত্র ১২ বছর বয়সেই তিনি একটি 

কম্পিউটার গেইম তৈরি করেন এবং তা ৫০০ ডলারে ম্যাগাজিন কোম্পানির নিকট বিক্রি করেন।

ইলন মাস্ক এর পরিবার

ইলন মাস্ক এর পরিবার

ইলন মাস্কের পিতার নাম-এরল মাস্ক। তিনি দক্ষিন আফ্রিকার নাগরিক। তিনি পেশায় একজন প্রকোশলী ছিলেন । 

ইলন মাস্কের মাতার নাম – মায়ে মাস্ক ।তিনি ছিলেন একজন মডেল এবং কানাডিয়ান নাগরিক। ২০০২ সালে ইলন মাস্ক মার্কিন নাগরিকত্ব সনদ লাভ করে।

ইলন মাস্কের শিক্ষা জীবন

ইলন মাস্কের শিক্ষা জীবন

মাত্র স্তের বছর বয়সে ১৯৮৯ সালে ইলন মাস্ক কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং বাধ্যতামুলক ভাবে সামরিক দায়িত্ব এড়াতে তিনি আফ্রিকা থেকে কানাডায়

যান। এবং ১৯৯২ সালে কানাডা থেকে ফিরে এসে পেনসিল্ভেনিয়া বিশব্বিদ্যালয়ে পদার্থ ও ব্যবসা বিষয়ে অধ্যায়নের উদ্দেশ্যে আসেন এবং

অর্থনীতি ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করেন। ক্যালিফোরনিয়ার স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জবালানী পদার্থ বিদ্যায় পিএইচডি

করার উদ্দেশ্য ভর্তি হন এবং ইন্টারনেট বিপ্লবের সূচনা হওয়ার তাতে অংশগ্রহনের জন্য মাত্র ২ দিন পিএইচডি প্রোগামে কাজ করার পর স্বেচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

ইলম মাস্ক এর কর্মজীবন

ইলম মাস্ক এর কর্মজীবন

স্বেচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করার পর কোম্পানী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং জিপ টু নামে অনলাইন গাইড সফটওয়্যার কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে। তারা

কিছুদিনের মধ্যে শিকাগো ট্রিবিউন এবং নিউইয়র্ক টাইমস এই দুটি প্রকাশনার কাছে তথ্য বিক্রি করেন এবং কমপ্যাক কম্পিউটার্সের নিকট নগদ ৩০৭ মিলিয়ন

ডলার এবং স্টকে ৩৪ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ১৯৯৯ সালে জি টু কোম্পানী বিক্রয় করে দেন।

পে-পাল

পে-পাল

১৯৯৯ সালে ইলন মাস্ক ও তার ভাই যথেষ্ট্য প্রচেষ্টায় আর্থিক লেনদেন ভিত্তিক সেবাদাতা সাইট এক্স প্রতিষ্ঠা করেন।

পরের বছর সেবা ডট.কমকে আজকের পে-পালে পরিণত করেন। ২০০২ সালে ইবে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করেন এবং এর ১১ শতাংশ শেয়ারের

অংশীদার ছিলেন ইলন মাস্ক।

স্পেস এক্স

স্পেস এক্স

মহাকাশ ভ্রমণের সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে ২০০২ সালে স্পেস এক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এবং তিনি রকেট তৈরির উদ্যোগ নেন। 

কয়েকবার বিফলে যাওয়ার পর তিনি সুফল্ভাবে রকেট উদ্ভাবন করেন এবং রকেট তৈরিতে বিরাট সাফল্য অর্জন করে এবং তিনি রকেট বিজঙানী হিসেবে

নামকরণ করেন.২০০৮ সালে সুফল মহাকাশযান প্রস্তুকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত হয়।

ইলন মাস্ক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাসার সাথেও বিভিন্ন প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করেছেন।

ফ্যালকন ৯ রকেট

ফ্যালকন ৯ রকেট

প্রাইভেট কোম্পানী কর্তৃক নির্মিত মহাকাশযানের আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র হিসেবে প্রথম যাত্রা করেন ২০১২ সালের ২২ মে ।

ইলিন মাস্ক এর ফ্যালকন-৯ রকেটটি ১০০০ পাউণ্ড রসদ ছিল ছিলো।

ফ্যালকন-৯ রকেটটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্পেস এক্স আরো একটি মাইলফলক উম্মোচন করেন এবং ফ্যালকন -৯ রকেট্টির মাধ্যমে আরো একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে প্রেরণ করেন ।

স্যাটেলাইটটি পৃথিবীর গতিপথ ও কক্ষপথকে অনুসরণ করে চলতে পারে।এরপর ২০১৫ সালে ফ্রেবুয়ারীতে ফ্যালকন মহাশূন্য দুরুত্বতম স্থান পরিভ্রমণ করে।

২০১৭ সালে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করে ফ্যালকন-৯ ।এবং তিনি প্রথম বিজ্ঞানী যিনি মঙ্গল্গ্রহকে পৃথিবীর মানুষের জন্য বাসযোগ্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফ্যালকন ৯ রকেটটি পূর্বে ব্যবহৃত রকেটের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরী করে উড্ডয়ন পরীক্ষা সফল ভাবে সম্পন্ন করা হয় ,যা মহাশূন্য যাত্রার জগতে নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়।

২০১৭ এর নভেম্বরে মাস্ক এবং তাঁর কোম্পানীকে বিপাকে পড়তে হয়েছিল। কোম্পানীর উদ্ভাবিত নতুন “ব্লক ৫ মারলিন” ইঞ্জিন এর পরীক্ষার সময়ে ইঞ্জিনটি বিস্ফোরিত হয়। 

স্পেস এক্স জানায় যে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি পরবর্তী প্রজন্মের উপর ফ্যালকন-৯ রকেট কোন বিরূপ প্রবভাব ফেলবেনা বলে আশা করেন ইলেক মাস্ক।

টেসলা মোটরস

টেসলা মোটরস

প্রত্যেক গাড়ি প্রেমীদেরই জানা আছে বিশ্ববিখ্যাত টেসলা মোটরস এর কথা । টেসলা হচ্ছে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কোম্পানী ইলন মাস্ক হচ্ছেন এসব অত্যাধুনিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী,সহ উদ্যোক্তা, ও 

প্রধান পন্য পরিকল্পনাকারী। এই কোম্পানীটি শুধু গাড়ী বানায় না, এর সাথে সাধারণ ব্যবহার্য ইলেক্ট্রনিক্স, ব্যাটারী এবং সোলার রুফও প্রস্তুত করেন।

ইলন মাস্ক তার প্রতিটি পণ্যের তত্বাবধান, প্রকৌশল এবং ডিজাইন নিজ হাতে করে থাকেন।

টেসলা বিশ্বের সেরা একটি স্পোর্টস কার “রোডস্টার” মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই বাজারে আনেন। 

মাত্র ৩.৭ সেকেন্ডের মধ্যেই রোডস্টার ০ থেকে এর গতিবেগ ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটারে নিয়ে যেতে সক্ষম।

এছাড়াও গাড়িটি কোনওরকম জ্বালানী তেল ব্যা গ্যাস ছাড়া শুধুমাত্র এর লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারীর ওপর নির্ভর করে ২৫০ মাইল পাড়ি দিতে পারে। 

টয়োটা ও ডামলারের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনের ফলে টেসলা কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী থেকে পাবলিক লি. কোম্পানীতে রপান্তরিত হয়।

কোম্পানীর প্রথম ইলেকট্রিক সিডান “Model – S” বাজারে দারুন সফলতা লাভ করে।

একবার ব্যাটারি ফুল চার্জ হলে এটি ২৬৫ মাইল পাড়ি দিতে সক্ষম। মোটর ট্রেন্ড ম্যাগাজিন মডেল এস কে ২০১৩ সালের সেরা গাড়ির মর্যাদা প্রদান করে

সোলার সিটি

সোলার সিটি

সোলার সিটি হচ্ছে ইলন মাস্কের আরো একটি উদ্ভাবনী । তিনি পূর্ন্য ব্যবহারযোগ্য শক্তি ও বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে সোলার সিটি।

আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম সৌরশক্তি উদ্ভাবক হছে সোলার সিটি।

সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরের ফলে সোলার সিটি দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

হাইপারলুপ. ২০১৩ সালে ইলন মাস্ক একটি দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা বানানোর পরিকল্পনা করেন এবং এর নাম দেওয়া হয় HyperLoop একটি টানেল বা টিউবের

মাধ্যমে বাতাসের চাপ কে কাজে লাগিয়ে খুব দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সহজ পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাজ করছে HyperLoop. বর্তমানে এখন ও এটি নিয়ে 

কাজ চলছে এবং আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত এই টেকনলজির সুবিধা পাওয়া যাবে এবং মানবকল্যাণে বিরাট ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও OpenAI, Neuralink, The Boring Company এসব বিশ্ব বিখ্যাত প্রোজেক্টগুলো তার উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানীটি মানবতার কল্যানে ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের জন্য গবেষণার কাজে নিবেদিত। 

২০১৭ সালে মাস্ক “নিউরালিঙ্ক নামের একটি উদ্যোগকে সহায়তা করছেন।

যারা এমন চিপ বানানোর জন্য গবেষণা করছে যা মানুষের মস্তিষ্কে স্থাপন করে সফটঅয়্যারের সাথে তার সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম হবে।

প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা

প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা

ইলন মাস্ক প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে কাজ করেন।ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচিত হলেও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর নিজের

জড়িত হওয়ার ব্যাপারে ২০১৭ সালে টুইটার বার্তায় লিখেন –আমার উদ্দেশ্য হল সৌরশক্তি ব্যবহারে পৃথিবীর যাত্রাকে গতিশীল করা এবং এবং মানব সভ্যতাকে

একটি বহুগ্রহ ভিত্তিক সভ্যতায় রূপান্তরে সাহায্য করা।পরে ইলন মাস্ক তার উপদেষ্টা পদ ত্যাগ করেন।

ইলন মাস্কের কিছু উক্তি বা অনুপ্রেরণামূলক কথা

ইলন মাস্কের কিছু উক্তি বা অনুপ্রেরণামূলক কথা

আমি সবসময় সমালোচনা খুঁজে বেড়াই কারণ, কাজের প্রতি একজন সমালোচক স্বর্ণালঙ্কারের মত মূল্যবান।

যখন তুমি একটা সমস্যার সাথে সংগ্রাম করবে , তখনই তুমি সে বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবে।

আমি মনেকরি সাধারণ মানুষের পক্ষে অসাধারন হয়ে ওঠার চেষ্টা করা সম্ভব।

অধ্যবসায় অত্যন্ত জরুরি, ততক্ষন পর্যন্ত হাল ছাড়া উচিত নয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত তুমি বাধ্য হও।

আপনি যে জিনিসটা বানাতে সবচেয়ে ভালো করে পারেন, সেটা বানানোর জন্য আপনি অধিক কঠোর হতে চান? 

কারণ সমস্যাকে খুঁজে বের করুন এবং তা সমাধান করার চেষ্টা করুন।

সর্বদা মহান কিছু উৎপাদনের লক্ষ্যেই একটি মহান কোম্পানি তৈরী হয়।

নতুন যুদ্ধক্ষেত্র দেখে কখনই ভয় পাওয়া উচিত নয়।

ইলন মাস্ক মানুষের জীবনকে আরো সহজ এবং মঙ্গলগ্রহকে প্ররথিবীর মানুষের বাসযোগ্য করার উপযোগী হিসেবে কাজ করছেন।

তার সকল প্রয়াস পূর্ণ হোক এবং তা বাস্তবে রূপলাভ করুন এই প্রত্যাশা।