Uncategorized

দ্রুত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় যা নিয়মিত ব্যাবহার করলে ঘরোয়া পদ্ধিতিতে ত্বক ফর্সা করা যায়

ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়। দ্রুত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় যা নিয়মিত ব্যাবহার করলে ঘরোয়া পদ্ধিতিতে  ত্বক ফর্সা করা যায়
দ্রুত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়।

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যাদের গায়ের রঙ শ্যামলা/কালো আবার এমনও লোক আছে যাদের গায়ের রঙ পূর্বে উজ্জ্বল থাকলেও এখন কালো হয়ে গেছে। তাদের জন্য ঘরোয়া উপায় নিচে বর্ণনা করবো। এই পদ্ধতি নিঃসন্দেহে আপনাদের উপকারে আসবে।

প্রথমেই আসি টমেটোতে

ভালো মানের টমেটো
টমেটো

টোমেটোতে রয়েছে

প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন নামক উপাদান, যা সব ধরনের দাগ মিলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মৃত কোষের স্তর সরিয়ে দেয়।

এই উপকরণ ব্যবহারে খুব সহজেই দ্রুত আপনার ত্বক ফর্সা হবে এবং আপনি পাবেন উজ্জ্বল মসৃণ ত্বক।

এটি আপনার ত্বকের অন্যান্য সমস্যাও দূর করবে। নিয়মিত ব্যবহার আপনার জন্য উপকারি প্রভাব ফেলবে।

এটি খুব সহজেই ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে। এটি উপায়টি প্রয়োগের জন্য ১/২ টি টমেটো ব্লেন্ডারে নিয়ে তার ভিতরে ২ চামচ লেবুর রস পেস্ট বানিয়ে নিন।

তারপর চেহারার উপর ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন এর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কিছু দিনের মধ্যেই এর প্রভাব লক্ষ্য করতে পারবেন।

এলোভেরা

ভালো মানের এলোভেরা
এলোভেরা

এলোভেরা হলো ত্বকের জন্য সবচেয়ে উপকারি উপাদান।

এলোভেরাতে অধিক পুষ্টিগুণ রয়েছে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।

এলোভেরা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় কালো দাগ কমায়। তৈলাক্ত ভাব দূর করে।

এলোভেরা জেল ত্বকের ক্লান্তি দূর করে ত্বক করে তোলে টানটান ও মসৃণ। এলোভেরা জেল আপনি শুধু জেল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

এটি আপনার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলুন। এই কাজটি প্রতিদিন গোসলের আগে করুন তাহলে বেশি কার্যকারিতা পাবেন।

এটি আপনার যেকোনো রকম ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তুলতে কার্যকরি। আবার অন্য রকম ভাবেও আপনি এই প্রয়োগ করতে পারেন।

অল্প করে এলোভেরা জেল নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো বাদাম গুড়া মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে ফেলুন তারপর সেই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট

রাখুন এবং ধুয়ে ফেলুন এলোভেরা জেল ত্বক ফর্সা করার পাশাপাশি নানাবিধ স্কিনের সমস্যা দূর করে।

মধু

ভালো মানের মধু
মধু

মধু একটি ত্বকের জন্য খুবই উপকারি উপাদান।

এটি নিঃসন্দেহে আপনার ত্বকের যত্ন নেয়। এটি আপনার ত্বক নরম বানাতে সাহায্য করে।

এট আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি ত্বককে বানায় দাগ হীন। আপনার ত্বকে যে যে জায়গায় ব্রণ বা ব্রণের দাগ রয়েছে সেই জায়গা গুলোতে লাগিয়ে নিন।

এটি আপনি রাতে ঘুমানোর আগে লাগিয়ে নিন এবং সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। এটি অন্যান্য হারবাল পন্যের মতোই কার্যকরি।

আপনি মধু আরো একটি উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন, পরিমান মতো দইয়ে অল্প পরিমান মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন তারপর সেই পেস্ট ১৫ মিনিট মুখে ম্যাসাজ করুন এর পর ধুয়ে ফেলুন।

মধু ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তোলে। দই এবং লেবুর রসে উপস্থিত ভিটামিন-সি ত্বককে উজ্জ্বল এবং ফর্সা করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এইভাবে আপনি মধু প্রয়োগ করতে পারেন।

লেবুর রস

ভালো মানের লেবুর রস
লেবুর রস

আমরা সবাই জানি লেবুর রসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বকের জন্য খুবই খুবই উপকারি।

লেবু খাওয়ার মাধ্যমেও আমরা ত্বকের যত্ন নিতে পারি। আপনি জেনে খুশি হবেন যে লেবু আপনি যেভাবেই প্রয়োগ করেন না কেনো এটি আপনার ত্বকের যত্ন নিবে।

এটি ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ত্বকের ওপর শুধু লেবু লাগাতে পারেন। এটি আপনার ত্বক দাগহীন উজ্জ্বল করবে।

এবং ত্বকে ফেরাবে উজ্জ্বলতা। এটি আপনি শুধু ব্রনে অথবা ব্রণের দাগের উপর লাগিয়ে দিলে এটি নিজের কার্যকারিতা দেখায়।

লেবু শুধু মুখের দাগের জন্য নয় বরং শরীরের যেকোনো ভাজ আকৃতির জায়গার দাগও দূর করে।

যেকোনো আন্ডার আর্মের কালো দাগ দূর করে। আবার লেবুকে অন্য পদ্ধতিতেও ব্যবহার করতে পারেব যেমন একটি লেবু থেকে রস সংগ্রহ করে তাতে ১ চামচ চিনি মিশিয়ে নিন।

তারপর এই মিশ্রন টি ততক্ষণ পর্যন্ত মুখে ঘষতে থাকুন, যতক্ষন না ত্বকের সাথে ভালোভাবে ত্বকের সাথে মিশে যায়।

এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ত্বক ফর্সা করতে এই পদ্ধতি দারুণ কাজে লাগে।

হলুদ

ভালো মানের হলুদ
হলুদ

যেকোনো ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক স্ক্রাব তৈরী করতে হলুদ ও ময়দা মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি ত্বক উজ্জ্বল করে এবং এর পাশাপাশি ত্বকের যত্ন নেয়।

আবার হলুদ আর লেবুর রসের মিশ্রণ বানিয়ে প্রয়োগ করতে পারেন। লেবু আপনার ত্বকের যত্ন নেয় এবং হলুদ ত্বক ফর্সা করে।

লেবুর রস ও হলুদ মিশিয়ে নিয়মিত প্রয়োগ করলে ত্বক খুব দ্রুত উজ্জ্বল হবে। আবার হলুদ দুধ মিশিয়েও প্রয়োগ করতে পারেন।

হলুদ আর দুধ ত্বককে ক্ষতি করে এমন ক্ষতিকারক উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ত্বক সুস্থ রাখে।

হলুদ ও নারিকেল তেল ব্যবহারের মাধ্যমেও আপনার ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। নাতিকেলে রয়েছে এন্টি ফাঙগাল উপাদাব যেগুলো আপনার ত্বকের সুস্থতায় সাহায্য করে৷

উপাদানটি ত্বকের লালচেভাব, সক্রমণ কমাতে ব্যবহার করুন। হলুদের সাথে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করেও ব্যবহার করতে পারেন।

এটি আপনার ত্বকের এন্টি অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে, যা আপনার ত্বক প্রাণবন্ত করে তোলে। এই মিশ্রণ মুখে মালিশ করলে নতুন কোষ বৃদ্ধি পাবে।

পানি দিয়ে ধুয়ে প্রাণবন্ত ত্বক অনুভব করতে পারবেন।


জলপাই তেল

মানের জলপাই তেল দ্রুত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় যা নিয়মিত ব্যাবহার করলে ঘরোয়া পদ্ধিতিতে  ত্বক ফর্সা করা যায়
জলপাই তেল

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে জলপাই তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকে এন্টি অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে।

জলপাই তেলের প্যাক ব্যবহার করে ত্বকের বলিরেখা দূর করা সম্ভব। এক চামচ জলপাই তেলের সাথে একটি ডিমের কুসুম এবং বেসন মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে সলতাহে ৩/৪ দিন প্রয়োগ করলে ত্বক দ্রুত উজ্জ্বল হয়।

জলপাই তেলের মইশ্চরাইজার ত্বকের শুষ্কতা রোধে কাজ করে। গরমকালে তৈলাক্ত ত্বকে জলপাই তেল ব্যবহার না করাই উত্তম।

অলিভ অয়েল ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের রাসায়নিক কাঠামোর সাথে মিশে যায়। উজ্জ্বল এবং স্বাস্থকর ত্বক বাদেও এটি ত্বকের অন্যান্য সমস্যা যেমন ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেডস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে।

অলিভ অয়েল প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি ত্বককে খুব ভালো মইশ্চার করে। ত্বকে তারুন্য ফিরিয়ে আনে।

স্কিন সেলস রিপেয়ার করে। প্রাকৃতিক ভাবে জীবানু প্রতিরোধ করে। হাতের আঙ্গুল দিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে ত্বক আরো বেশি উজ্জ্বল হবে।

টক দই

ভালো মানের টক দই
টক দই

টক দই আর ওট মিল দ্বারা হোয়াইটেনিং মাস্ক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার ত্বক উজ্জ্বল করে।

ফর্সা বানায়। আপনার ত্বকের মইশ্চরাজতা দীর্ঘ করে। এটি ব্যবহারে আপনি পাবেন দাগহীন উজ্জ্বল/ফর্সা ত্বক।

এটি ব্যবহারের জন্য আপনি ঘরোয়া উপাদান গুলোই ব্যবহার করতে পারেন। আপনি এই পদ্ধিতি ব্যবহারের জন্য প্রথমত ওট মিল গুলোকে সারা রাত ভিজিয়ে

রেখে তারপর সকালে এগুলোকে পেস্ট করবেন। এবং পরবর্তীতে টক দই পেস্ট এর সাথে মিশিয়ে নিবেন।

এবং এটি মাস্ক এর মতো ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার চেহারায় ফেস মাস্ক এর মতোই কাজ করবে।

এটি চেহারার ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস, পিম্পল দূর করবে। ত্বক কে করবে দুই স্তর বেশি উজ্জ্বল।

আরো মখমলে এবং আরো বেশি সুন্দর। এটি আপনি নিয়মিত ব্যবহারে পাবেন দুই গুণ বেশি উজ্জ্বলতা এবং আরো সুন্দর চেহারা।

আমন্ড এর ফেসপ্যাক

ভালো মানের আমন্ড এর ফেসপ্যাক
আমন্ড এর ফেসপ্যাক

আমন্ড এর ফেসপ্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। আমন্ডে আছে প্রচুর পরিমানে এন্টি অক্সিডেন্ট।

যেগুলো চেহারা উজ্জ্বল আর সুন্দর করে তোলে। আমন্ড খেলেও আমন্ড এর পুষ্টিগুণ ত্বকের যত্নে কাজ করে।

এটি কোনো রকম পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বকের যিত্নে কাজ করে। আর আমন্ড এর ফেস প্যাকটি ত্বকের উজ্জ্বলতায় অসাধারণ ভাবে কাজে দেয়।

আমন্ড এর ফেস প্যাক ব্যবহার করার জন্য আপনাকে প্রথমত আমন্ড গুলোকে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে।

সকালে আমন্ড গুলো পেস্ট করগে হবে। পেস্ট করা আমন্ডগুলো বাটার মিল্ক বা মালাই এর সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।

এবং এই প্যাকটি চেহারায় মাখতে হবে। ত্বকের উজ্জ্বলতায় এই প্যাক অনেক অবদান রাখে।

এটি ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর কিছুক্ষণ চেহারা স্ক্রাব করে তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এটি আপিনার ত্বকের সব রকম সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এটি ত্বক উজ্জ্বল করার সাথে সাথে ত্বকের মৃত কোষ গুলো ধ্বংস করে ফেলে।

এই প্যাকটি ত্বক নরম করে। তবে যারা মালাই ব্যবহার করতে চাননা তারা টক দই বা মধু ব্যবহার করতে পারেন।

এই প্যাকটি শুষ্ক ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারি। আপনার শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় উত্তম।

মসুর ডাল

ভালো মানের মসুর ডাল
মসুর ডাল

মসুর ডাল ব্যবহার করেও ত্বক উজ্জ্বল করতে পারেন মসুর ডালও প্রাকৃতিক ভাবে আপনার ত্বক উজ্জ্বল করে।

এটি গভীর থেকে আপনার ত্বক উজ্জ্বল করে। দুই স্তর বিশিষ্ট গভীর থেকে ত্বক উজ্জ্বল করে। ত্বক করে তোলে আরো মসৃণ।

ত্বক মইশ্চার করে, পলিশ করে। মসুর ডাল ব্যবহার করার জন্য মসুর ডাল ভিজিয়ে রেখে নরম হয়ে যাওয়ার পর এগুলো পেস্ট করে নিয়ে তারপর ত্বকে মাখতে হবে।

মসুর ডালের পেস্ট আপনার ত্বক করবে গভীর থেকে উজ্জ্বল করে। এই পেস্ট লাগানোর ২০-২৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এটি আপনার ত্বকের এন্টি অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করবে। ত্বক আরো গ্লোয়িং করে। আরো ফুটফুটে জেল্লা তুলে ধরে।

এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে পাবেন উজ্জ্বলতা। দাগহীন, ব্রণহীন ফুটফুটে ত্বক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *