Uncategorized

ভালো খেজুর চেনার উপায় এবং খেজুর খাবার উপকারিতা

ভালো খেজুর, চেনার উপায়, খেজুর খাবার উপকারিতা

খেজুর

খেজুর খাওয়া সুন্নত এবং এই খেজুর স্বাস্থ্যের অনেক উপকারি। খেজুর ফল আমাদের নবী কারীম( স) খেতে ভালোবাসতেন।

রমজান মাসে আমরা খেজুর খায় এবং সারাদিন রোযা রাখার ফলে আমাদের শরীরে যে পরিমাণ ক্যালরির ঘাটতি হয়,

যা এই খেজুর খাওয়ার মাধ্যমে তা পূর্ণ হয় এবং খেজুর খেলে শরীরের ক্লান্তি এবং বার্ধক্য দূর হয় ।

খেজুরে রয়েছে অনেক গুনাগুন।তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় খেজুর রাখা অনেক উপকারী। আসুন খেজুর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জেনে নেই।

খেজুরের নামকরণ

খেজুর গাছের ফল খেজুর নামে পরিচিত।Dactylifera” এর বাংলা অর্থ হচ্ছে “খেজুর বহনকারী”।

প্রাচীন গ্রীক ভাষা Daktulos ” যার অর্থ খেজুর বা আঙ্গুল এবং ল্যাটিন ভাষা fero এর বাংলা অর্থ “আমি বহন করি”।

প্রোটিন সমৃদ্ধ এই খেজুর নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

খেজুরের বিভিন্ন পুষ্টিগুন বা উপাদানসমূহ

খেজুরের বিভিন্ন পুষ্টিগুন বা উপাদানসমূহ

মানব দেহের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রনের ও সকল প্রকার পুষ্টি উপাদানই বিদ্যমান রয়েছে খেজুরে। খেজুর ।

খেজুর ফ্রুক্টোজ ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ এক প্রকার মিষ্টি জাতীয় ফল। খেজুরে আরো যেকল পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম উপাদানগুলো হলো ক্যালসিয়াম,পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম

ভিটামিন কে, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড আয়রণ এবং প্টাশিয়াম অন্যান্য সকল উপাদান যা আমাদের ক্যালরির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম।

খেজুরের উপকারিতা

খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। খেজুরের নানা পুষ্টিগুন আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারি। খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিই

খেজুরের উপকারিতা

1. ভিটামিন  খেজুরের রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১,বি-২বি-৩বি৫ এবং ভিটামিন- সি যা আমাদের শারীরে

ভিটামিনের সকল চাহিদা পূরণ কররতে সক্ষম।রাতকানা প্রতিরোধে ভিটামিন সমৃদ্ধ খেজুর অনেক উপকারী।

2.  প্রোটিন -খেজুর প্রোটিন সমৃদ্ধ ফল যা পেশি গঠনে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

3.  ক্যালসিয়াম-খেজুরে রয়েছে ক্যালসিয়াম ,পটাশিয়াম,লৌহ।ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখতে সহায়ক।

4. আয়রন মানব দেহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আয়রন । খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে।খেজুর খেলে হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

5. কোলেস্টেরল এবং ফ্যাট খেজুরে কোন কোলেস্টেরল এবং চর্বি থাকে না। যার ফলে খেজুর স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী।

6.  সংক্রমণ যকৃতের সংক্রমণ প্রতিরোধে খেজুর অত্যান্ত উপকারী ফল। এছাড়াও জ্বর, গলা ব্যথা,সর্দি, এবং ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা দূরীকরণেও খেজুর উপকারী।

7. কর্মশক্তি বাড়ায়- খেজুর খুব দ্রুত শরীরে শক্তি সঞ্চার করতে পারে। সারাদিন রোজা রাখার পর রোজাদাররা যখন খেজুর খান ,তখন দ্রুত শরীরের ক্লান্তি কেটে যাবে।

8. ওজন হ্রাস খেজুর ওজন হ্রাস করতেও ভীষণ কার্যকরী।

ওজন হ্রাস খেজুর ওজন হ্রাস করতেও ভীষণ কার্যকরী

9. রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ যাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম, তারা নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন।

খেজুরের রয়েছে আয়রন যা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে।

10. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে  খেজুরে সব পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে 

11. ক্যান্সার প্রতিরোধ – খেজুর এমন একটি পুষ্টিগুনসমৃদ্ধ ফল যা ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধেও বিশেষ সহায়ইক।

12. হৃদরোগ প্রতিরোধ খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম ,যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতেও সহায়ক ভুমিকা পালন করে থাকে।

13. স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায় খেজুর স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তুলতে সক্ষ্ম।খেজুর খেলে স্মৃতিশক্তি বিকশিত হয়।

অপকারিতা বা সতর্কতা

অপকারিতা বা সতর্কতাঃ

খেজুরের অসংখ্য উপকারিতা থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে খেজুর গ্রহনে সতর্ক হওয়া উচিত।

যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা খেজুর গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন এবং যাদের দেহে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি তার খেজুর খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

খেজুর একজন সুস্থ মানুষের শরীরে আয়রনের চাহিদার বেশির ভাগই খেজুর থেকে পূর্ণ কওর। তাই প্রতিদিন খেজুর খেতে পারেন।

খেজুর খায় সুস্থ থাকি বার্ধক্য,ক্ল্যান্তি দূর করি এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *